প্রশ্ন : বর্তমানে অনলাইনে অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং একটি জনপ্রিয় আয়-পদ্ধতি। দারাজ, Amazon, ClickBank ইত্যাদি প্ল্যাটফর্মে অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিংয়ের মাধ্যমে অর্থ উপার্জন করা যায়। আমার জানার বিষয় হলো—আমি কি অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিংয়ের মাধ্যমে অর্থ উপার্জন করতে পারব? এ বিষয়ে শরিয়তের দৃষ্টিভঙ্গি কী?
উত্তর : বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম।
অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং মূলত ক্রয়–বিক্রয়ে মধ্যস্থতার একটি আধুনিক রূপ। এতে একজন ব্যক্তি নির্দিষ্ট কোনো কোম্পানি বা প্রতিষ্ঠানের পণ্যের লিংক শেয়ার করেন, অতঃপর শেয়ারকৃত লিংক দেখে কেউ পণ্য কিনলে কোম্পানি কর্তৃক তিনি নির্ধারিত হারে কমিশন লাভ করেন।
আর শরিয়তে ক্রয়বিক্রয়ে মধ্যস্থতা করা এবং এর বিনিময়ে পারিশ্রমিক বা কমিশন গ্রহণ করা জায়েয। ইমাম লাইস রহ. বলেন,
سألت عطاء عن السمسرة، فقال: لا بأس بها
অর্থ : আমি তাবেয়ি আতা রহ.-কে ক্রয়বিক্রয়ে মধ্যস্থতা প্রসঙ্গে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বলেন, এতে কোনো সমস্যা নেই। [আল-মুসান্নাফ লি ইবনি আবি শাইবা, ২৩৪৭৬]
তবে মধ্যস্থতা জায়েয হওয়ার জন্য অবশ্যই সংশ্লিষ্ট পণ্যের ক্রয়বিক্রয় শরিয়তসম্মত হতে হবে। যে পণ্যের ব্যবহার বা ক্রয়বিক্রয় শরিয়তে নিষিদ্ধ, যেমন মদ, বিয়ার, শূকরের মাংস— এমন পণ্যের প্রচারণা করা কিংবা তার ক্রয়বিক্রয়ে মধ্যস্থতা করা জায়েয নয়। এটা গুনাহের কাজে সহযোগিতার শামিল। আল্লাহ তাআলা বলেন,
وَلا تَعاوَنُوا عَلَى الْإِثْمِ وَالْعُدْوانِ
অর্থ : তোমরা গুনাহ ও সীমালঙ্ঘণের কাজে একে অপরকে সহযোগিতা করো না। [সুরা মায়িদা, ২] অতএব, প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে আপনি যদি অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিংয়ের মাধ্যমে অর্থ উপার্জন করতে চান, তবে শুধুমাত্র বৈধ ও শরিয়ত-অনুমোদিত পণ্যের মার্কেটিং করে অর্থ উপার্জন করতে পারেন। শরিয়ত-নিষিদ্ধ পণ্যের মার্কেটিং করে অর্থ উপার্জন করা জায়েয হবে না।
আরও দ্রষ্টব্য, আল-মুদাওয়ানাতুল কুবরা, ৩/৪৬৬; রাদ্দুল মুহতার, ৬/৬৩
১২২ টি প্রশ্ন আছে
৬০ টি প্রশ্ন আছে
১২১ টি প্রশ্ন আছে
২১৮ টি প্রশ্ন আছে
২৪ টি প্রশ্ন আছে
৭৯ টি প্রশ্ন আছে
৩৩ টি প্রশ্ন আছে
৫৮ টি প্রশ্ন আছে
৬৫ টি প্রশ্ন আছে
১৪১ টি প্রশ্ন আছে
২২১ টি প্রশ্ন আছে
৮৬ টি প্রশ্ন আছে