প্রশ্ন : বর্তমানে বাজারে লক্ষ্য করা যায় যে, কিছু নারী কখনো একাকী, আবার কখনো স্বামী বা অন্য কোনো মাহরাম পুরুষের উপস্থিতিতে দোকানদারের কাছ থেকে চুড়ি পরেন এবং হাত-পায়ে মেহেদি লাগান। শরিয়তের দৃষ্টিতে এর কোনো অবকাশ আছে কি?
উত্তর : বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম
পুরুষের জন্য পরনারীর হাত অথবা দেহের অন্য কোনো অংশ স্পর্শ করা জায়েয নয়। এ ব্যাপারে হাদিসে কঠোর সতর্কবার্তা এসেছে। মা’কিল ইবনে ইয়াসার রা. থেকে বর্ণিত, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন,
لَأن يُطْعَنَ فِيْ رَأسِ أحَدِكُمْ بِمِخْيَطٍ مِنْ حَديْدٍ خَيْرٌ لَه أن يَمَسَّ امْرَأةً لَا تَحِلُّ لَهُ
অর্থাৎ কোনো ব্যক্তির জন্য পরনারী স্পর্শ করার চেয়ে তার মাথা লৌহসুচে ক্ষতবিক্ষত হওয়া অধিক উত্তম। [আল-মুজামুল কাবির, ৪৮৬]
এ হাদিস প্রমাণ করে যে, পুরুষের জন্য পরনারীকে স্পর্শ করা হারাম। উত্তেজিত হওয়ার আশঙ্কা না থাকলেও এ বিধান প্রযোজ্য। ইমাম সারাখসি রহ. বলেন,
ولا يحل له أن يمس وجهها ولا كفها وإن كان يأمن الشهوة
অর্থাৎ, উত্তেজিত হওয়ার আশঙ্কা না থাকলেও পুরুষের জন্য নারীর চেহারা বা হাত স্পর্শ করা জায়েয নয়। [আল-মাবসুত, ১০/১৫৪]
অতএব, সাধারণ অবস্থায় পুরুষের জন্য পরনারীর হাত বা দেহের অন্য কোনো অংশ স্পর্শ করা জায়েয নয়। অবশ্য যদি কখনো চিকিৎসা বা অন্য কোনো অনিবার্য প্রয়োজনে পরনারীর দেহ স্পর্শ করা অপরিহার্য হয়ে পড়ে, তবে সে ক্ষেত্রে স্পর্শ করার অবকাশ রয়েছে।
আর বলা বাহুল্য যে, হাতে চুড়ি পরা বা মেহেদি লাগনো অনিবার্য প্রয়োজন নয়। তাই পরপুরুষ দোকানদারের কাছ থেকে চুড়ি পরা বা মেহেদি লাগানো জায়েয নয়। এমনকি স্বামী বা অভিভাবকের অনুমতি থাকলেও জায়েয হবে না। শরিয়তের বিধানের বিপরীতে স্বামী বা অভিভাবকের অনুমতি প্রদানের কোনো অধিকার নেই। রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন,
لَا طَاعَةَ لِمَخْلُوقٍ فِيْ مَعْصِيَةِ اللهِ عَزَّ وَجَلَّ
অর্থ : মহান আল্লাহর অবাধ্যতা করে কোনো সৃষ্টির আনুগত্য করার সুযোগ নেই। [মুসনাদে আহমাদ, ১০৯৫]
আরও দ্রষ্টব্য, শারহুন নাবাবি আলা সহিহি মুসলিম, ১৩/১০; আল-মুহিতুল বুরহানি, ৫/৩৩৫; লামাআতুত তানকিহ, ৮/৪২; আল-ফাতাওয়াল হিন্দিয়্যা, ৫/৩২৯
১২২ টি প্রশ্ন আছে
৬০ টি প্রশ্ন আছে
১২১ টি প্রশ্ন আছে
২১৮ টি প্রশ্ন আছে
২৪ টি প্রশ্ন আছে
৭৯ টি প্রশ্ন আছে
৩৩ টি প্রশ্ন আছে
৫৮ টি প্রশ্ন আছে
৬৪ টি প্রশ্ন আছে
১৪১ টি প্রশ্ন আছে
২২০ টি প্রশ্ন আছে
৮৫ টি প্রশ্ন আছে