ব্যবসা-বাণিজ্য ও লেনদেন বিভাগের অধীনে থাকা প্রশ্নগুলো এখানে দেখতে পাবেন
প্রশ্ন : বর্তমানে অনলাইনে অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং একটি জনপ্রিয় আয়-পদ্ধতি। দারাজ, Amazon, ClickBank ইত্যাদি প্ল্যাটফর্মে অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিংয়ের মাধ্যমে অর্থ উপার্জন করা যায়। আমার জানার বিষয় হলো—আমি কি অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিংয়ের মাধ্যমে অর্থ উপার্জন করতে পারব? এ বিষয়ে শরিয়তের দৃষ্টিভঙ্গি কী?
প্রশ্ন : আমি আমার পিতার সঙ্গে একসাথে ব্যবসা করি। ব্যবসায় আমার কোনো মূলধন ছিল না। মূলধন পুরোটা আমার পিতারই ছিল। কিন্তু আমিও তাঁর সঙ্গে ব্যবসা পরিচালনা করতাম। যদিও নিয়মতান্ত্রিক কোনো ব্যবসায়িক চুক্তিও আমাদের মাঝে ছিল না। এখন এই ব্যবসা থেকে অর্জিত টাকায় জমি কেনা হয়েছে। এই জমির মালিকানায় কি আমার কোনো অংশ আছে? আমার পিতার ভাষ্যমতে এতে আমার কোনো অধিকার নেই। এ ব্যাপারে শরিয়ত কী বলে?
প্রশ্ন : বিভিন্ন দোকানে দেখা যায়, দোকানদার বা বিক্রয়কর্মীরা পণ্য দেওয়ার সময় বলে দেন, “এখনই ভালোভাবে দেখে নিন; পরে কোনো ত্রুটি পেলে আমরা দায়ভার গ্রহণ করব না এবং পণ্য ফেরতও নেব না।” জানতে চাই, এ ধরনের শর্ত আরোপ করে পণ্য বিক্রয় করার শরয়ি বিধান কী?
প্রশ্ন : মুহতারাম, আমি একটি ফার্মেসির মালিক। আমরা বিভিন্ন কোম্পানি থেকে এই শর্তে ওষুধ ক্রয় করি যে, যে সব ওষুধ নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে বিক্রি হবে না, সেগুলো কোম্পানি ফেরত নেবে। আমার জানার বিষয় হলো, শরিয়তের দৃষ্টিতে এভাবে শর্তযুক্ত চুক্তি করা কি জায়েয হবে?
প্রশ্ন : মুহতারাম শায়খ, আমি একটা মুরগি ফার্মের মালিক। প্রতিদিন আমাদের ফার্মে প্রচুর মুরগির বিষ্ঠা উৎপন্ন হয়। আমরা চাইলে মুরগির বিষ্ঠা বিক্রি করে অনেক টাকা আয় করতে পারি। অনুগ্রহ করে জানাবেন, এই মুরগির বিষ্ঠা বিক্রি করা কি ইসলামী শরিয়তের দৃষ্টিতে জায়েয?
প্রশ্ন : আমি জনৈক ব্যক্তির সঙ্গে ৫০ শতাংশ লাভে শেয়ারভিত্তিক ব্যবসায়ের জন্য চুক্তিবদ্ধ হয়েছি। মূলধনের ৬০ শতাংশ আমি দিয়েছি, আর সে দিয়েছে ৪০ শতাংশ। চুক্তি অনুযায়ী মৌসুম শেষে হিসাব করে লভ্যাংশ ভাগাভাগি করে নেওয়ার কথা। কিন্তু সে মৌসুম শেষ হওয়ার আগেই প্রতি মাসে আমাকে নির্দিষ্ট পরিমাণ টাকা দিচ্ছে এবং বলছে, এভাবে প্রত্যেক মাসে দেবে, আর মৌসুম শেষে চূড়ান্ত হিসাবের সময় ৫০ শতাংশ লাভের বাকি অংশ পরিশোধ করবে। এভাবে মৌসুম শেষ হওয়ার আগে নিয়মিত টাকা দেওয়া শরিয়তসম্মত কি না?
প্রশ্ন : আমার এক বন্ধু একটি দোকান করেছে। তার মূল পুঁজি ছিল তিন লক্ষ টাকা। পরবর্তীতে তার প্রয়োজনে আমি তার ব্যবসায় দুই লক্ষ টাকা বিনিয়োগ করি। আমাদের মধ্যে চুক্তি হয় যে, আমি ব্যবসায়ের জন্য শ্রম দেবো না, বরং শ্রম শুধুমাত্র আমার বন্ধুই দেবে। আর দোকানের সব খরচ বাদ দিয়ে যা লাভ থাকবে, তা আমরা সমানভাবে ভাগ করে নেব। আমার এই বিনিয়োগ শরিয়তসম্মত হয়েছে কি না—দয়া করে জানালে কৃতজ্ঞ থাকব।
প্রশ্ন : মুহতারাম, বাই ওয়ান গেট ওয়ান পদ্ধতিতে ক্রয়-বিক্রয় করা কি জায়েয?
প্রশ্ন : জাতীয় সঞ্চয় অধিদপ্তর থেকে সঞ্চয়পত্রের ওপর যে মুনাফা দেওয়া হয়ে থাকে, তার বিধান কী? এ মুনাফা গ্রহণ করা কি জায়েয? জানিয়ে বাধিত করবেন।
প্রশ্ন : মুহতারাম, আমি ঘরোয়াভাবে মেয়েদের সাজসজ্জা নিয়ে কাজ করি। আর বর্তমান বাংলাদেশের বেশিরভাগ মহিলা শরয়ি পর্দা করে না। এ ধরনের মহিলারাও আমার নিকট হাত ও পায়ে মেহেদি লাগিয়ে দেওয়ার জন্য আসে। আমার জানার বিষয় হলো, এ ধরনের মহিলাদের হাত ও পায়ে কি আমি মেহেদি লাগিয়ে দিতে পারব এবং এর বিনিময়ে প্রাপ্ত টাকা কি হালাল হবে?
প্রশ্ন : মুহতারাম, আমি একজন দর্জি। আমার কাছে মুসলিম নারীদের পাশাপাশি হিন্দু নারীদের কাপড় সেলাই করার অর্ডারও আসে। আমি কি হিন্দু নারীদের কাপড় সেলাই করার অর্ডার গ্রহণ করতে পারব?
প্রশ্ন : মুহতারাম, অনেক মানুষ সেকেন্ডহ্যান্ড মোটরসাইকেল বেশি দামে বিক্রি করার জন্য মিটার টেম্পারিংয়ের আশ্রয় নেয়। অর্থাৎ, মিটারে ওঠা কিলোমিটার সংখ্যা কমিয়ে দেখায়, যার ফলে ক্রেতা কম পুরাতন মনে করে তুলনামূলক বেশি মূল্যে মোটরসাইকেল কিনতে আগ্রহী হয়। আমার প্রশ্ন হলো সেকেন্ডহ্যান্ড মোটরসাইকেল বেশি দামে বিক্রি করার জন্য এভাবে মিটার টেম্পারিং করা কি জায়েয?